পৃথিবীর সব মানুষ যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কি ঘটবে এই পৃথিবীতে

যদি আপনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার বাগানের পরিচর্যা না করেন তাহলে কি ঘটবে? ঠিক আছে, এবার তাহলে আর একটু অনুমান করুন, আপনি যদি আপনার বাগানটিকে পরিচর্যা না করে এক দশক, এক শতাব্দী, অথবা দশ লক্ষ বছর ফেলে রাখেন তাহলে কি ঘটবে? নূন্যতম এটা বলা যায় সব কিছুর প্রবৃদ্ধি অনেক মন্থর হয়ে যাবে। আমাদের অনুপস্থিতিতে কুকুরের প্রজাতিগুলো কি বেঁচে থাকতো? আমরা যদি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতাম তাহলে কি পাখি, মৌমাছি, সমুদ্রের মাছগুলোর উপর কোন প্রভাব পড়তো?

poat-image

চলুন টিভি শো “ দ্যা লেফটওভারস” এর মত করে কল্পনা করি, পৃথিবী থেকে একদিন সবাই প্রস্থান করবে, সেখানে কোন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। প্রথমত পৃথিবীর যাবতীয় ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার জন্য কিছু সময় লাগবে। সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলো চলতে থাকবে, যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে চালিত যন্ত্রপাতিগুলোর কিছু কিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে যেসব প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় চালিত হয় না, সেগুলোও অবশেষে ব্যর্থ হবে, এবং পৃথিবীর সমস্ত লাইট বা আলো বন্ধ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র যেসব জিনিস সোলার শক্তি দ্বারা পরিচালিত সেসবই শেষ পর্যন্ত থাকবে। তবে এতে করে কয়েক দশক ধরে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করা হয়।

poat-image

এটা ঘটার পূর্বে আমাদের অধিকাংশ পোষা প্রাণী মারা যাবে কারণ তারা ঘর থেকে বের হতে পারবে না। তাদের মধ্যে আবার কিছু বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিবে অর্থাৎ তারা বন্য পশু হয়ে যাবে, মোটামুটি নেকড়ের দলের মত। চিড়িয়াখানার কিছু কিছু প্রাণী পালিয়ে যেতে সক্ষম হবে, কিন্তু বাকী সব প্রাণী তাদের খাঁচার মধ্যেই মারা যাবে। খামারের প্রাণীগুলো তাদের মাঠ ছেড়ে পালাবে যেহেতু বৈদ্যুতিক বেড়াগুলো তখন আর কাজ করবে না। বিপুল সংখ্যক প্রাণীর মধ্যে যেগুলো পালাতে পারবে না সেগুলো খুব কম সময়ের মধ্যে মারা যাবে। তাই আমরা অনুমান করতে পারি ম্যাকডোনাল্ড মত বিশাল খামারেও একসময় পচন ধরবে। অনেক বন্য প্রাণী মানুষের খাস জমিতে ঢুকে পড়বে শিকারের জন্য বা আমাদের ফেলে রাখা খাবারের জন্য। কিছু কিছু বড় শিকারি প্রাণী যেমন বাঘ, সিংহ মূলত যেগুলোকে মানুষ ফেলে রেখে যাবে, নিঃসন্দেহে সেগুলোও একদিন বেড়িয়ে পড়বে এবং সে জন্য সিংহ অথবা বাঘ শহরগুলোকে তাদের আবাসভূমি বানাবে। এসব শিকারী প্রাণীর হয়ত খাবার পেতে সমস্যা হবে না, তবে তারা তাদের সঙ্গী খুঁজে পেতে সমস্যায় ভুগবে।

poat-image

নিউক্লয়ার শক্তি কেন্দ্রগুলো এক মাস বা দুই মাসের মধ্যে গলতে শুরু করবে এবং এই কারণে পৃথিবীতে প্রচুর তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণ ঘটবে। তৈল শোধনাগারে বিস্ফোরণ ঘটবে  এবং আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। ভূগর্ভস্থ পথগুলো বন্যায় ভেসে যাবে যেহেতু প্রতিদিন পাম্পের মাধ্যমে মিলিয়ন গ্যালন পানি অপসারিত হতে পারবে না। যেহেতু শহরের বন্যার বেড়িবাঁধগুলো আর কাজ করবে না, সেহেতু অনেকগুলো শহর আর্দ্র হয়ে পড়বে। যেসব শহরগুলো মরুভূমির কাছে অবস্থিত খুব শীঘ্রই সেগুলো বালির নিচে চাপা পরবে। এই সব ঘটনাগুলো ঘটবে পৃথিবী থেকে মানুষ বিলুপ্ত হওয়ার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে।

poat-image

আরো কয়েক মাস পরে শহরের চারিদিকে আগাছা ছড়িয়ে পড়বে এবং বিল্ডিংগুলোর পাশে আঙুর গাছ জন্মাবে। শহরগুলোকে অনেক সবুজাভ দেখাবে এবং বৃক্ষাদির সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। ঘরের ভিতরে গুড়া মাটির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, এবং প্রতিটি বাড়ি পোকা-মাকড়, পরজীবী এবং ইঁদুর দ্বারা ভরে যাবে। যে বন এবং জংগল একসময় আমরা কেটে ফেলতাম সেই বন-জংগলগুলো এক সময় বৃদ্ধি পেতে পেতে সীমালঙ্ঘন করে শহর এবং নগরগুলো ছেয়ে ফেলবে। তিন বছরের মধ্যে দালানগুলো ক্ষয় হতে শুরু করবে, এবং ঝড়ে পরবে, স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীতে পতিত হবে। সর্বশেষ ব্যাটারিগুলোর চার্জ একদিন ফুরিয়ে যাবে এবং একটি ছোট প্রাণী পৃথিবীর শেষ ঘড়িটির টিক শব্দে সচকিত হবে।

poat-image

প্রায় ২০ বছরের মধ্যে শহরের জায়গায়গুলোর ৭৫ শতাংশই বৃক্ষ দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে যাবে। অনেকগুলো দালান ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ধসে পড়বে এবং যেসব প্রাণীগুলো টিকে থাকবে সেগুলো ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। সেতু এবং গাড়ীগুলোতে  জং ধরবে। প্লাস্টিকের বোতল একটির সাথে আর একটি পড়ে থাকবে। নিচু এলাকার শহরগুলো প্লাবিত হতে শুরু করবে। লন্ডন শহরটি অর্ধেক নদীতে পরিণত হবে, অর্ধেক হবে জলাভূমি, কিন্তু তাদের খাবারের ক্যানগুলো তখনো পর্যন্ত খাওয়ার উপযুক্ত থেকে যাবে, কারণ ক্যানগুলো কাদার মধ্যে পড়ে থাকবে। ৫০ বছর পরে একটি কর্কশ শব্দ শুনা যাবে যা শুনলে মনে হবে কেউ ইংরেজিতে কথা বলছে। এটি হবে একটা মৃতপ্রায় তোতাপাখির তার জীবনের শেষ শব্দ। এই তোতাপাখিটি হলো পৃথিবীর শেষ জীবিত প্রাণী যেটি মানুষের ভাষা শিখেছিলো।

poat-image

১০০ বছর পরে, আপনি হয়ত খুঁজে পাবেন একটি গাড়ীর কংকাল, যেটি ক্ষয় হওয়ার কারণে প্রায় চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ওয়াশিংটন ডিসি  হবে একটি জলাভূমি, হোয়াইট হাউস ভেঙ্গে প্রায়  টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ততদিনে পোকামাকড় ও পরজীবীগুলো মানুষের বানানো মহান ও মূল্যবান শিল্পগুলো প্রায় সাবাড় করে ফেলবে। এরও ১০০ বছর পরে, বেশীর ভাগ দালানগুলো ধসে পড়বে। ভূমিকম্প এবং হারিকেন পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশকে পরিবর্তন করে ফেলবে। অনেকগুলো পুরাতন কাঠামো তখন পর্যন্ত অক্ষত থাকবে। স্টোনহেঞ্জ তখনো ঘাসের ভিতর শান্তভাবে বসে থাকবে, সেখানে চড়ুই পাখি ব্যস্ত দিন কাটাবে। ঠিক যেমনটা মানুষ থাকা অবস্থায় তারা ব্যস্ত ছিল।

poat-image

৫০০ বছর পরে, রিও ডি জেনেরিও এর মত শহরগুলোকে রেইন ফরেস্ট বা ঘন বনের মতো মনে হবে। ৫০০ বছর পরে প্রায় সব শহর উদ্ভিদ এ পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। মনুষ্যজাতির অবশিষ্টাংশ এই উদ্ভিদের মধ্যে চাপা পড়বে। নিউ অর্লিন্স এর মত শহরগুলো মাটি চাপা পড়বে না, কিন্তু সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

poat-image

১০,০০০ বছর পরে, মানবজাতির রেখে যাওয়া নিদর্শণসমূহগুলোর তেমন কোন চিহ্নই থাকবে না, এমনকি গীজার পিরামিডও বালির নিচে লুকিয়ে যাবে। কিন্তু মহাকাশে, মানুষের পাঠানো ভয়েজার যান তখনো রয়ে যাবে, যদি না মহাকাশের ধংসস্তুপ দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়। এমনকি এই বিশাল অপসারণের লক্ষ লক্ষ বছর পরে যখন পৃথিবীতে মানবজাতির কোন চিহ্ন পাওয়া যাবে না, তখন একমাত্র ভয়েজারই হবে পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের একমাত্র প্রমাণ।

poat-image

১০০ কোটি বছর পর, সূর্য তার সব প্রাণরস পৃথিবীতে ঢেলে দিবে। এই ব্যাপারগুলো উপর থেকে এলিয়েনরা পর্যবেক্ষণ করবে। ১৯৭০ সালে ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২ মাধ্যমে আমাদের পাঠানো “গোল্ডেন রেকর্ড” পড়ার মাধ্যম সেসব ছোট সবুজ মানুষগুলো আমাদের সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান রাখবে।

 তো, আপনি কি মনে করেন? পৃথিবীতে আর কি কি ঘটতে পারে বলে মনে করেন? আমরা যদি কিছু বাদ দিয়ে থাকি তাহলে কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানান। এছাড়া আমাদের বানানো “কি ঘটতো যদি আপনি শুধুমাত্র সোডা পান করতেন?”লাইক, শেয়ার, এবং সাবস্ক্রাইবের মাধমে আমাদের পাশে থাকুন।

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন