রাজবাড়ী জেলার সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী ও দর্শনীয় স্থান

রজবাড়ী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ: রাজবাড়ী জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। রাজবাড়ী জেলার উত্তরে পদ্মা, পশ্চিম থেকে পূর্বে। পদ্মা ও যমুনার সঙ্গমস্থল দৌলদিয়ার সামান্য উত্তরে আরিচা ঘাট। পদ্মার অপর পারে পাবনা ও মানিকগঞ্জ। দক্ষিণে পদ্মার শাখা নদী গড়াই। গড়াই- এর ওপারে ঝিনাইদহ ও মাগুরা। জেলার পূর্বে ফরিদপুর ও পশ্চিমে কুষ্টিয়া। রাজবাড়ী ঘিরে পদ্মা, চান্দনা, গড়াই ও হড়াই নদী।

poat-image

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, বরিশাল পদ্মা নদী দ্বারা বিভক্ত। ঢাকা হতে দক্ষিণাঞ্চলে এসব জেলায় পৌঁছাতে হলে দৌলতদিয়া ঘাট অতিক্রম করা অপরিহার্য। ব্রিটিশ ভারতে গোয়ালন্দ বাংলার পশ্চিম আর পূর্বের সেতু বন্ধন হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও ঘাট পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে। 

poat-image

বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর গঠন বিচিত্র। এ মন্দিরটি ১৭০০ সালে তৈরি বলে পন্ডিতগণ মনে করেন বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষী নীলকর ও জমিদারের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমন করে ও কাচারী জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর, বহরপুর, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়–য়া, মৃগী, মাদাপুর, সংগ্রামপুর, পাংশার নীলচাষীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে বৃটিশ সরকার নীল কমিশন বসান এবং নীল চাষ  স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্বাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।

poat-image

বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মোশারফ হোসেন স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক নিবাস পদমদীতে মীর মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রীর সমাধীকে ঘিরে ১৯৯৯ সালে তৈরি করা হয় মীর মোশারফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মস্ত্রণালয়ের অধীন দুই কোটি তিপান্ন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ব্যায়ে দুই একর জমির উপর স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। নির্মিত এই স্মৃতি কেন্দ্রে একটি পাঠাগার, একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি কক্ষ, সভা কক্ষ, মিউজিয়াম, ডাইনিং রুম প্রভৃতি তৈরি করা হয়েছে। মীরের আবাক্ষ মুর্তি যে কোন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  এ স্মৃতি কেন্দ্রে মীর ভক্তদের পাশাপাশি শীত মৌসুমে প্রচুর পর্যটকদের ভীড় জমে।

poat-image

রাজবাড়ী অঞ্চলে ষোড়শ শতকে ধর্ম প্রচারের জন্য  আগমন করেন শাহ পাহলোয়ান এরম ত আউলিয়ারা। ১৪৮০ হতে ১৫১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শাহ পাহলোয়ান বোগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে বাসস্থান নির্মাণ করে উপাসনা করেছিলেন। কথিত আছে শাহ পাহলোয়ান মৃত্যুও সময় শিষ্যদের তার কবর পূর্ব পশ্চিম লম্বা লম্বি দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তার শিষ্যবর্গ প্রচলিত বিধানমতে যথানিয়মে তাকে কবরস্থ করেন। কিন্তু সকালে দেখা গেল তার কবর পূর্ব পশ্চিম লম্বা লম্বি হয়ে গিয়েছে। শাহ পাহলোয়ানই রাজবাড়ী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ভিত রচনা করে গেছেন।

poat-image

রাজবাড়ী শহরের ৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে আহলাদিপুর মোড়ে জামাই পাগলের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি শেড নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জামাই পাগল নামে এক ব্যাক্তিকে সেখানে নেংটি পরা অবস্থায় শেওড়া গাছের নীচে মজ্জুম অবস্থায় দেখা যেত। তাকে কেহ প্রশ্ন করলে তিনি একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করতেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত স্থানে জামাই পাগলের মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে। লোকশ্রুতি আছে জামাই পাগল এক বোবা মেয়েকে পানিতে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে সে কথা বলতে শুরু করে। 

poat-image

ঐতিহ্যবাহী আউলিয়া মসজিদ রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত।

poat-image

কল্যাণ দীঘি রাজবাড়ীর েএকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান।

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন