সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস

বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সাতক্ষীরা জেলার অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে তাকালে এ জেলার পূর্বে খুলনা জেলা, পশ্চিমে চব্বিশ পরগণা জেলার (ভারত) বসিরহাট মহকুমা, উত্তরে যশোর জেলা ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ জনবসতি প্রাচীনকালে খ্যাত ছিল বুড়ন দ্বীপ নামে। এর পাশে চন্দ্রদ্বীপ, মধুদ্বীপ, সূর্যদ্বীপ, সঙ্গদ্বীপ, জয়দ্বীপ ইত্যাদি দ্বীপ খ্যাত ছোট ছোট ভূখণ্ডের অবস্থান পাওয়া যায় প্রাচীন ইতিহাস ও মানচিত্রে। রামায়ণ মহাভারতের তথ্যানুযায়ী এ অঞ্চলের সংঘবদ্ধ মনুষ্য বাসতির গোড়াপত্তন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্ব থেকে।পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ (খ্রিঃ ৬৩৪) যে ভ্রমণ বৃত্তান্ত দিয়েছেন তাতে গঙ্গারিডি রাজ্যের উল্লেখ পওয়া যায়। এর সময়ের গঙ্গারিডি পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ,তাম্রলিপ্তি, সমতট প্রভৃতি নামে খ্যাত ছিল। বর্তমানের সাতক্ষীরা জেলা এই সমতটেরই অংশ।

poat-image

সাতক্ষীরা জেলার আদি নাম সাতঘরিয়া। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কর্মচারী হিসেবে ১৭৭২ সালে নিলামে পরগনা কিনে গ্রাম স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র প্রাণনাথ চক্রবর্তী সাতঘর কুলীন ব্রাহ্মণ এনে এই পরগণায় প্রতিষ্ঠিত করেন এবং নাম হয় সাতঘরিয়া। আবার অনেকের মতে, একদা সাত মনীষী সাগর ভ্রমণে এসে একান্ত শখের বসে (মতানৈক্যে রান্নার উপকরণাদি না পেয়ে) ক্ষীর রান্না করে খেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ক্ষীর এর সাথে আ প্রত্যেয় যুক্ত হয়ে ক্ষীরা হয় এবং লোকমুখে প্রচলিত হয়ে যায় সাতক্ষীরা।

poat-image

সাতক্ষীরা অঞ্চল মহকুমার মর্যাদা পায় ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে। মহকুমার মর্যাদা পাওয়ার পর প্রথমে সাতক্ষীরাকে যুক্ত করা হয় নদীয়া জেলার সাথে। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে নদীয়া থেকে সাতক্ষীরাকে বিভক্ত করা হয় চব্বিশ পরগণার সাথে। খুলনা জেলার মর্যাদা পায় ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে। জেলার মর্যাদা পাওয়ার পর লর্ড রিপনের (১৮৮০-৮৪) আন্তরিক প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা মহকুমাকে খুলনা জেলার একটা মহকুমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় সাতক্ষীরা মহকুমা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার একটি জেলা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।

প্রশাসন
সাতক্ষীরা জেলায় ২ টি পৌরসভা , ৭টি উপজেলা, ৮টি থানা , ৭৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১৪২৩টি গ্রাম রয়েছে।
পৌরসভা সমূহ
সাতক্ষীরা পৌরসভা,কলারোয়া পৌরসভা
উপজেলা সমূহ
আশাশুনি উপজেলা,কলারোয়া উপজেলা,কালীগঞ্জ উপজেলা,তালা উপজেলা,দেবহাটা উপজেলা,শ্যামনগর উপজেলা,সাতক্ষীরা সদর উপজেলা
থানা সমূহ
সাতক্ষীরা সদর,তালা,পাটকেলঘাটা,কলারোয়া,আশাশুনি,দেবহাটা,শ্যামনগর,কালীগঞ্জ

অন্যান্য তথ্যসমূহ 

মোট আয়তন: ৩৮৫৮.৩৩ কিমি ২ (১৪৮৯.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১৩ আনুঃ) মোট ২০,৭৯,৮৮৪
সময় অঞ্চল বিএসটি:  ইউটিসি+৬
পোস্ট কোড: ৯৪০০

poat-image

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পাকসেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৪-১৭ এপ্রিল সাতক্ষীরা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেজারিতে মজুদ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিজেদের দখলে নেয়। ২০ এপ্রিল পাকসেনারা এ উপজেলায় প্রবেশের সময় ঝাউডাঙ্গাতে গণহত্যা চালায় এবং ২১ এপ্রিল সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে (পূর্ব নাম সাতক্ষীরা টাউন স্কুল) শরণার্থী শিবিরে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুই শতাধিক লোককে হত্যা করে। ২৯ এপ্রিল ভোমরায় মুক্তিযোদ্ধা ও পাকসেনাদের মধ্যে সংগঠিত লড়াইয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং বহুসংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। ৬ মে শ্যামনগরের গাবুরায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৭ জুন দেবহাটা উপজেলার টাউন শ্রীপুর গ্রামে পাকসেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে নাজমুল আরেফিন খোকন ও শামসুজ্জামান খান কাজলসহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

১৭ জুলাই মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ক্যাম্পে আক্রমণ চালিয়ে ৭ জন পাকসেনাকে হত্যা করে। ১৬ আগস্ট আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীতে পাকবাহিনীর দুটি গানবোটে আক্রমণের সময় ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৯ সেপ্টেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় পাকসেনারা শ্যামনগরের হরিনগর বাজারে অতর্কিতে আক্রমণ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং ২৮ জন লোককে হত্যা করে। ১৭ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন রাজাকার নিহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর কলারোয়ার হঠাৎগঞ্জ প্রতিরক্ষা ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে ২৯ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং ২০ সেপ্টেম্বর পাকসেনাদের আক্রমণে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমণকালে ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এছাড়া পাকসেনারা নির্বিচারে গুলি করে এ উপজেলার পারুলিয়া সাপমারা খালে প্রায় ৩ শতাধিক ভারতগামী শরনার্থীকে হত্যা করে।

poat-image

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার বিচারে সাতক্ষীরার স্থান যথেষ্ট প্রসিদ্ধ

প্রধান স্থাপনা সমূহ : প্রবাজপুর শাহী মসজিদ,তেতুলিয়া জামে মসজিদ,ইশ্বরীপুর হাম্মামখানা,জাহাজ ঘাটা হাম্মামখানা ও তৎসংলগ্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ,ঝুঁড়িঝাড়া ঢিবি,দরবার স্তম্ভ, গোবিন্দ দেবের মন্দির ঢিবি,যীশুর র্গীজা (শ্যামনগর),যশোরেশ্বরী মন্দির,শ্যাম সুন্দর মন্দির,কোঠাবাড়ির থান,ছয়ঘরিয়া জোড়াশিব মন্দির,অন্নপূর্ণা মন্দির,দ্বাদশ শিব মন্দির,জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ।

poat-image

সুন্দরবন ;
মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত - শ্যামনগর;
জমিদার বাড়ি ও যশোরেশ্বরী মন্দির - শ্যামনগর;
নলতা রওজা শরীফ - কালিগঞ্জ;
নীলকুঠি - দেবহাটা থানা;
মাইচম্পার দরগা;
লাবসা - সাতক্ষীরা;
বৌদ্ধ মঠ - কলারোয়া;
তেঁতুলিয়া মসজিদ - তালা;
মোজাফফর গার্ডেন;
বনলতা বাগান ও মিনি পিকনিক স্পট - কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা;
আব্বাস গার্ডেন।
জমিদার হরিচরনের বাড়ি- শ্যামনগর
জাহাজঘাটা-ভুরুলিয়া, শ্যামনগর;
মাটির টালি তৈরির কারখানা - কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
বনবিবির বটগাছ- দেবহাটা, সাতক্ষীরা
কলাগাছি, সুন্দরবন।
আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার; মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর।
ভোমরা স্থল বন্দর , সাতক্ষীরা।
শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহাসিক গোপালপুর স্মৃতিসৌধ

poat-image

খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা - সমাজ সেবক, সাহিত্যিক শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক;
ডা: এম আর খান - জাতীয় অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ;
পচাব্দী গাজী - বিশ্ব বিখ্যাত বাঘ শিকারী
আজিজুননেছা খাতুন - প্রথম মুসলিম মহিলা কবি
ওস্তাদ শেখ মোঃ কাওছার আলী - সাহিত্যিক ও কন্ঠশিল্পী
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী - একজন বাঙালি লেখক/কবি;
সিকান্দার আবু জাফর - বিশিষ্ট সাহিত্যিক;
আনিস সিদ্দিকী - বিশিষ্ট সাহিত্যিক (একুশে পদকপ্রাপ্ত);
জনাব তোয়াব খান - সাংবাদিক;
আবেদ খান - সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব;
শাহরিন বিনতে আনোয়ার - সেনাবাহিনীর প্রথম মহিলা পাইলট
সাবিনা ইয়াসমিন - প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী;
নীলুফার ইয়াসমীন - বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী;
রানী সরকার - বিশিষ্ট চলচিত্র অভিনেত্রী;
তারিক আনাম খান - নাট্যশিল্পী;
আফজাল হোসেন - নাট্যশিল্পী;
ফাল্গুণী হামিদ - নাট্যশিল্পী;
মৌসুমী হামিদ - অভিনেত্রী
সারিকা সাবরিন - মডেল ও অভিনেত্রী
সৈয়দ জাহাঙ্গীর - বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী (একুশে পদকপ্রাপ্ত);
মুস্তাফিজুর রহমান - ক্রিকেটার;
সৌম্য সরকার -ক্রিকেটার;
ডা: এ এফ এম রুহুল হক - সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী;
এ্যাডভোকেট এম মনসুর আলী - সাবেক মন্ত্রী, সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ;
সৈয়দ দিদার বখত - সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক;
মোঃ হাবিবুল্লাহ- সমাজসেবক
ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় - ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।
শঙ্কর রায় চৌধুরী - ভারতের সাবেক সেনা প্রধান, দেবহাটা, সাতক্ষীরা।
শেখ লুতফুর রহমান - গীতিকার (জনতার সংগ্রাম চলবেইঃ স্বাধীনতার গান)
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী।
ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ; সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
পরীমনি ( চিত্র নায়িকা )

আপনি কি সাহায্য পেয়েছেন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য করতে লগইন করুন নিবন্ধন করুন